বিশ্বাসঘাতকের লক্ষণ
বিশ্বাসঘাতককে চিনতে হলে তার কথাবার্তা, চালচলন ও আচার-আচরণ গভীরভাবে লক্ষ্য করতে হয়। বিশেষ করে তার অসতর্ক মুহূর্তের আচরণ ও কথাবার্তার মধ্য দিয়েই প্রকৃত স্বভাব অনেকটা ধরা পড়ে।
১. শ্রদ্ধা না হীনম্মন্যতা
দেখতে হয়—মানুষটির মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ প্রবল, না কি হীনম্মন্যতাবোধ বেশি।
২. কৃতজ্ঞতা না অসন্তোষ
তার মধ্যে কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ বেশি, না কি অনুযোগ, অভিযোগ ও অসন্তোষ বেশি—তা লক্ষ্য করতে হয়।
৩. সংশোধনের মানসিকতা না হেয় করার প্রবণতা
সে কি সহ্য করে, বুঝিয়ে-বলিয়ে অন্যের সংশোধনে তৎপর হয়, না কি অন্যের দোষের কথা বলে লোকসমক্ষে তাকে হেয় করতে ব্যস্ত থাকে?
৪. অন্যের ভালোতে আনন্দ না ঈর্ষা
কাউকে ভালো থাকতে দেখলে সে সুখী হয়, না কি ঈর্ষান্বিত হয়—এটিও তার চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।
৫. অন্যের প্রশংসা না আত্মপ্রচার
সে কি অন্যকে বাহাদুরী দেয়, না কি সবসময় নিজের বাহাদুরীর কথাই বলে?
৬. অন্যের স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা না স্বার্থপরতা
সে কি অন্যের সুখ-সুবিধা করে নিজের সুখ-সুবিধা চায়, না কি নিজের সুখ-সুবিধার জন্য বেপরোয়াভাবে অন্যের স্বার্থ ব্যাহত করতে পারে?
৭. উপকারীর বিপদে পাশে থাকা না পাশ কাটিয়ে যাওয়া
যে তার উপকার করেছে, তার দুঃখ-বিপদের সময়ে সে পাশে এসে দাঁড়ায়, না কি সুবিধামতো পাশ কাটিয়ে যায়—এটিও বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয়।
৮. অসতর্ক মুহূর্তের আচরণই আসল পরিচয়
মানুষের প্রকৃত স্বভাব অনেক সময় তার সচেতন আচরণে নয়, বরং অসতর্ক মুহূর্তের চালচলন ও কথাবার্তার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
~~
একটু গভীরভাবে নজর রাখলেই মানুষের স্বভাবের ধাঁচ অনেকটাই টের পাওয়া যায়। তাই কাউকে বিচার করার আগে তার কথার চেয়ে তার দীর্ঘদিনের আচরণ, অন্যের প্রতি মনোভাব এবং বিশেষ করে অসতর্ক মুহূর্তের ব্যবহার লক্ষ্য করা প্রয়োজন।
গ্রন্থসূত্র:
আলোচনা প্রসঙ্গে, পঞ্চম খণ্ড
৩২শে আষাঢ়, শনিবার, ১৩৫০
ইংরেজি: ১৭/০৭/১৯৪৩
পৃষ্ঠা: ৫৩