বাস্তব শিক্ষায় সেবা এবং শক্তি
~~~~~~
সেকালে ছাত্ররা মানুযের বাড়ী-বাড়ী যেত,
তাদের সুখ-দুঃখের খবর নিত,
বাস্তবভাবে অনুসন্ধিৎসার সঙ্গে সেবা দিত,
তাদের নানা সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হ'তো
এবং যেখানে প্রয়োজন, আচার্য্যের সঙ্গে আলোচনা ক'রে বিহিত সমাধান দিত, তাদের যাজনে উদ্বুদ্ধ ও ইষ্টকৃষ্টি-অনুরক্ত ক'রে তুলতো, এক কথায় প্রত্যেকটি পরিবারকে উচ্ছল ক'রে তুলতে চেষ্টা করতো।
এইভাবে মানুষগুলি হ'য়ে উঠতো তাদের পরমাত্মীয়, কৃতজ্ঞতার অর্ঘ্যস্বরূপ তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে ভিক্ষা দিত। সে-ভিক্ষা আহরণ ক'রে নিয়ে ছাত্ররা আবার গুরুকে নিবেদন করতো। গুরুসেবার পর তারা প্রসাদস্বরূপ যা' পেতো তাই গ্রহণ করতো।
এই যে শিক্ষাব্যবস্থা, এতে ছাত্ররা বুঝতো যে, মানুষ উপায় করাই জীবনের প্রধান কাজ। মানুষের জীবনের উপর, মানুষের সুখ-সুবিধার উপর, মানুষের উন্নতির উপর, বর্দ্ধনার উপর যা'তে গোড়া থেকেই নজর পড়ে, তার বাবস্থা আমাদের আজ করতে হবে।
এইটুকুর উদ্বোধন যদি না হয়, তাহ'লে সব শিক্ষা ব্যর্থ' হ'য়ে যাবে। ভাল মানুষ বলতে, শিক্ষিত মানুষ বলতে বুঝতে হবে তাকে, যে বাস্তবভাবে মানুষের ভাল করে।
মন্দ করলাম না, এই যথেষ্ট নয়, সবভাবে নিজের ও অপরের ভাল করতে হবে। মন্দকে মন্দীভূত করতে হবে-ইষ্ট, কৃষ্টি, বৈশিষ্ট্যের প্রতি নজর রেখে। ভাল মানুষগুলি যদি শক্তিমান সক্রিয় না হয়, তাহ'লে ভালর প্রভাব চারাবে না।
আজকাল দেখা যায়, সমাজে খারাপ মানুষ-গুলি সক্রিয়ভাবে খাটে-পেটে, মানুষের খারাপও করে তারা সক্রিয়ভাবে।
কিন্তু ভাল মানুষগুলি যেন মিনমিনে, অন্যের ক্ষতি করে না, ভাল করতে চায়, কিন্তু ভাল করার ক্ষমতা নেই। এতে প্রভাব হয় না।
আপনারা ঋত্বিকরা এমন বাস্তব সর্ব্বতো-মুখী সেবাসম্ভার নিয়ে, চারিত্রিক দ্যুতি নিয়ে সমাজের বুকে প্লাবনের মতো ঢ'লে পড়েন যে মানুষের অন্তরাত্মা যেন আপনা থেকে গেয়ে ওঠে- 'স্বস্তি। স্বস্তি।' 'স্বাগতম, স্বাগতম'।
গ্রন্থসূত্রঃ আলোচনা-প্রসঙ্গে তৃতীয় খণ্ড,
১লা বৈশাখ, ১৩৪৯, মঙ্গলবার, (ইং ১৪/৪/১৯৪২)